নামকরণ কী?
নামা অর্থ নাম। করণম অর্থ সৃষ্টি। নামকরণ হলো একটি নবজাতকের আনুষ্ঠানিক নামকরণ, যে অনুষ্ঠানে শিশু বৈদিক ঐতিহ্য অনুযায়ী তার প্রথম নামটি পায়।
নামকরণ ষোলোটি সংস্কারের একটি — জীবন-আচারসমূহ যা গর্ভধারণ থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বিভিন্ন মাইলফলক চিহ্নিত করে। এটি ক্রমানুসারে ষষ্ঠ সংস্কার এবং সবচেয়ে ব্যাপকভাবে পালিত অনুষ্ঠানগুলোর একটি, এমনকি যে পরিবারগুলো ষোলোটি আচারের সব পালন করে না তারাও এটি পালন করে।
অনুষ্ঠানটি সাধারণত জন্মের ১১তম বা ১২তম দিনে অনুষ্ঠিত হয়, যখন মা ও শিশুকে প্রসব-পরবর্তী সময়ের পরে আচারগতভাবে শুদ্ধ বলে মনে করা হয়। কোনো কোনো পরিবারে ১৬তম, ২১তম বা ২৮তম দিন বেছে নেওয়া হয়, বা যদি আরও শুভ মুহূর্তম পাওয়া যায় তাহলে পরবর্তী কোনো তারিখও নেওয়া হয়। মূল শর্ত হলো দিনটি জ্যোতিষগতভাবে অনুকূল হতে হবে।
জন্মনক্ষত্র ও নামকরণের আদ্যাক্ষর
নামকরণের কেন্দ্রবিন্দু হলো শিশুর জন্মনক্ষত্র ও নামের প্রথম অক্ষরের মধ্যকার সংযোগ। শিশু জন্ম নেওয়ার সময় সঠিক সময় ও স্থান লিপিবদ্ধ করা হয়। একজন জ্যোতিষ (জ্যোতিষাচার্য) জন্মের মুহূর্তে চাঁদ কোন নক্ষত্রে অবস্থান করছিল তা গণনা করেন — এটিই শিশুর জন্মনক্ষত্র (জন্মতারা)।
২৭টি নক্ষত্রের প্রতিটিই চারটি পাদে (চতুর্ভাগে) বিভক্ত। প্রতিটি পাদে একটি নির্দিষ্ট আদ্যাক্ষর (অক্ষরম) রয়েছে। নক্ষত্রের ভেতরে চাঁদের সঠিক অবস্থান দ্বারা পাদ নির্ধারিত হয়। শিশুর নামটি জন্মনক্ষত্র ও পাদের সাথে সংগতিপূর্ণ আদ্যাক্ষর দিয়ে শুরু হওয়া উচিত।
২৭টি নক্ষত্র ও তাদের আদ্যাক্ষরসমূহ
নিচের সারণিতে প্রতিটি নক্ষত্রের চারটি আদ্যাক্ষর দেখানো হয়েছে, প্রতিটি পাদের জন্য একটি। শিশুর জন্মনক্ষত্র ও সংশ্লিষ্ট পাদ খুঁজে বের করুন এবং দেখুন নামটি কোন অক্ষর দিয়ে শুরু হওয়া উচিত।
| নং | নক্ষত্র | পাদ ১ | পাদ ২ | পাদ ৩ | পাদ ৪ |
|---|---|---|---|---|---|
| 1 | Ashwini (அசுவினி) | Chu (சு) | Che (சே) | Cho (சோ) | La (ல) |
| 2 | Bharani (பரணி) | Li (லி) | Lu (லு) | Le (லே) | Lo (லோ) |
| 3 | Krittikai (கார்த்திகை) | A (அ) | I (இ) | U (உ) | E (எ) |
| 4 | Rohini (ரோகிணி) | O (ஓ) | Va (வ) | Vi (வி) | Vu (வு) |
| 5 | Mrigashirsham (மிருகசீரிடம்) | Ve (வே) | Vo (வோ) | Ka (க) | Ki (கி) |
| 6 | Thiruvadhirai (திருவாதிரை) | Ku (கு) | Gha (க) | Ng (ங) | Chh (ச) |
| 7 | Punarpoosam (புனர்பூசம்) | Ke (கே) | Ko (கோ) | Ha (ஹ) | Hi (ஹி) |
| 8 | Poosam (பூசம்) | Hu (ஹு) | He (ஹே) | Ho (ஹோ) | Da (ட) |
| 9 | Ayilyam (ஆயில்யம்) | Di (டி) | Du (டு) | De (டே) | Do (டோ) |
| 10 | Magam (மகம்) | Ma (ம) | Mi (மி) | Mu (மு) | Me (மே) |
| 11 | Pooram (பூரம்) | Mo (மோ) | Ta (ட) | Ti (டி) | Tu (டு) |
| 12 | Uthiram (உத்திரம்) | Te (டே) | To (டோ) | Pa (ப) | Pi (பி) |
| 13 | Astham (அஸ்தம்) | Pu (பு) | Sha (ஷ) | Na (ண) | Tha (த) |
| 14 | Chithirai (சித்திரை) | Pe (பே) | Po (போ) | Ra (ர) | Ri (ரி) |
| 15 | Swathi (சுவாதி) | Ru (ரு) | Re (ரே) | Ro (ரோ) | Tha (த) |
| 16 | Visakam (விசாகம்) | Thi (தி) | Thu (து) | The (தே) | Tho (தோ) |
| 17 | Anusham (அனுஷம்) | Na (ந) | Ni (நி) | Nu (நு) | Ne (நே) |
| 18 | Kettai (கேட்டை) | No (நோ) | Ya (ய) | Yi (யி) | Yu (யு) |
| 19 | Moolam (மூலம்) | Ye (யே) | Yo (யோ) | Ba (ப) | Bi (பி) |
| 20 | Pooradam (பூராடம்) | Bu (பு) | Dha (த) | Bha (ப) | Dha (த) |
| 21 | Uthiradam (உத்திராடம்) | Be (பே) | Bo (போ) | Ja (ஜ) | Ji (ஜி) |
| 22 | Thiruvonam (திருவோணம்) | Ju (ஜு) | Je (ஜே) | Jo (ஜோ) | Gha (க) |
| 23 | Avittam (அவிட்டம்) | Ga (க) | Gi (கி) | Gu (கு) | Ge (கே) |
| 24 | Sadhayam (சதயம்) | Go (கோ) | Sa (ச) | Si (சி) | Su (சு) |
| 25 | Poorattadhi (பூரட்டாதி) | Se (சே) | So (சோ) | Da (த) | Di (தி) |
| 26 | Uthirattadhi (உத்திரட்டாதி) | Du (து) | Tha (த) | Jha (ஜ) | Da (த) |
| 27 | Revathi (ரேவதி) | De (தே) | Do (தோ) | Cha (ச) | Chi (சி) |
অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণ
নামকরণ একটি শুভ মুহূর্তম অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়। বিবাহের মুহূর্তমের মতো কঠোর নয়, তবে কিছু নির্দেশিকা রয়েছে:
- পছন্দের তিথি: দ্বিতীয়া (২য়), তৃতীয়া (৩য়), পঞ্চমী (৫ম), সপ্তমী (৭ম), দশমী (১০ম), একাদশী (১১শ) এবং ত্রয়োদশী (১৩শ), শুক্লপক্ষে (চাঁদের বাড়তি পর্যায়ে)।
- পছন্দের বার: সোমবার, বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারকে শুভ বলে মনে করা হয়।
- পছন্দের নক্ষত্র: অশ্বিনী, রোহিণী, মৃগশীর্ষম, পুনর্পুসম, পুসম, অস্থম, স্বাতী, তিরুভোণম এবং রেবতী।
- রাহু কালাম এড়িয়ে চলুন: অনুষ্ঠানটি রাহু কালামের সময় শুরু হওয়া উচিত নয়।
- অমাবস্যা ও গ্রহণ এড়িয়ে চলুন।
জাতকের ভূমিকা, জাথাকাম এবং নাম বাছাই
শিশু জন্ম নেওয়ার পর পরিবার জন্মের সঠিক সময় ও স্থানের ভিত্তিতে জাথাকাম (জন্মকুণ্ডলী) তৈরি করে। জাথাকাম শুধু জন্মনক্ষত্র ও পাদই নির্ধারণ করে না, বরং লগ্ন (উদয়রাশি), গ্রহাবস্থান এবং দশা (গ্রহকাল) ও নির্ধারণ করে।
জ্যোতিষ যা পরীক্ষা করেন
- জন্মনক্ষত্র ও পাদ — নামের আদ্যাক্ষর নির্ধারণ করে।
- লগ্ন (উদয়রাশি) — কোনো কোনো পরিবার বিকল্প হিসেবে লগ্ন-নক্ষত্রের আদ্যাক্ষর বেছে নেয়।
- নবমাংশ অবস্থান — নবম বিভাগীয় কুণ্ডলী যা পাদকে পরিমার্জিত করে।
- দোষসমূহ — যদি জাথাকামে নির্দিষ্ট দোষ (যেমন মঙ্গল দোষ) দেখা যায়, তাহলে একটি রক্ষামূলক আদ্যাক্ষরযুক্ত নাম সুপারিশ করা হতে পারে।
এটি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যে জ্যোতিষ আদ্যাক্ষর সুপারিশ করেন, পুরো নাম নয়। পরিবারই প্রকৃত নামটি বেছে নেয়, শর্ত হলো নামটি সঠিক আদ্যাক্ষর দিয়ে শুরু হতে হবে।
আধুনিক রূপান্তর
আজকাল অনেক তামিল পরিবার ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটায়। কিছু সাধারণ রূপান্তর:
- পরিবার পছন্দের নাম বেছে নেয় এবং তারপর যাচাই করে যে তা শিশুর নক্ষত্রের গ্রহণযোগ্য আদ্যাক্ষর দিয়ে শুরু হচ্ছে কিনা।
- পছন্দের নাম না মিললে নক্ষত্র আদ্যাক্ষরটি আচারিক নাম হিসেবে (ধর্মীয় প্রসঙ্গে) ব্যবহৃত হয় এবং পছন্দের নামটি দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত হয়।
- প্রবাসী পরিবারগুলো তামিল নামকরণের সাথে স্থানীয় নামকরণ রীতি মেলায় — যেমন স্থানীয় মধ্যনামের ঐতিহ্যের সাথে তামিল প্রথম নাম।
- কোনো কোনো পরিবার নক্ষত্র আদ্যাক্ষরটি প্রথম অক্ষর হিসেবে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নাম বেছে নেয় — যেমন 'Ka' আদ্যাক্ষর থেকে 'Karthik' বা 'Kavya' নাম আসতে পারে।
আমাদের টুল ব্যবহার করে আপনার সন্তানের জন্মনক্ষত্র খুঁজে বের করুন
সঠিক আদ্যাক্ষর খুঁজে পেতে আপনাকে শিশুর সঠিক জন্মনক্ষত্র ও পাদ জানতে হবে। এর জন্য জন্মের মুহূর্তে চাঁদের পার্শ্বীয় অবস্থান প্রয়োজন।
- শিশুর জন্মতারিখের পঞ্চাঙ্গ খুলুন।
- জন্মের সঠিক সময়ে চাঁদ কোন নক্ষত্রে ছিল তা দেখুন — সূর্যোদয়ে নয়, জন্মের ঘড়ির সময়ে।
- নক্ষত্রের মধ্যে পাদ (চতুর্ভাগ) চিহ্নিত করুন।
- উপরের সারণিতে সংশ্লিষ্ট আদ্যাক্ষর খুঁজে বের করুন।
আমাদের পঞ্চাঙ্গ দিনের নক্ষত্র ও পরিবর্তনের সময় দেখায়, যাতে আপনি যেকোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোন নক্ষত্র প্রচলিত ছিল তা জানতে পারেন। তবে সঠিক পাদ গণনার জন্য সঠিক জন্মসময় নিয়ে একজন জ্যোতিষের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।